Breaking News

স্বচ্ছ ভাবনা চিন্তার সৃষ্টিশীল মানুষ বিশিষ্ট লেখক নাঈম মাহমুদ মিথেলের সাক্ষাৎকার।

নাঈম মাহমুদ : শুকরিয়া ভালো তবে সময়টা অন্ধকারময় কালো।চারদিকে ত্রাহিত্রাহি রব একটি আণুবীক্ষণিক ভাইরাস মানব সভ্যতাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে।আল্লাহ সামাণ্য আবাবিবিল পাখি দিয়েই ধ্বংস করে দিয়েছিলেন বিশাল হস্তি বাহিনীকে।আমি সহ সকলেই যেন ভালো থাকে সেই দোয়াই নিশিভোর।

প্রশ্ন : এখন আপনার ব্যস্ততা কী নিয়ে?

নাঈম মাহমুদ : ব্যস্ততার মধ্যেই তো সময় কাটাতে হয়।রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়ম এর অনুবাদের কাজ শেষ করেছি এখন সেগুলির বিশ্লেষণ নিয়ে কাজ করছি।আমাদের সংগঠন বাংলাদেশ সাহিত্য পরিষদ ও তার অনলাইন পত্রিকাটির মূল দায়িত্ব আমার উপর থাকায় সেখানেও প্রচুর সময় দিতে হয়।চাকুরীটা ছেড়ে দিয়ে উদ্যোক্তা হওয়ার চেষ্টা করছি আর বই পড়া তো আছেই।

প্রশ্নঃ বাংলাদেশ সাহিত্য পরিষদ সম্পর্কে জানতে চাই?

নাঈম মাহমুদঃ ২০১৭ সালের প্রথমদিকে আমি শরৎ গবেষক ড.হাসিনা ইসলাম সীমা আপুকে একটি সাহিত্য সংগঠন তৈরী করার প্রস্তাব দেই।তারপর বিশিষ্ট আবৃত্তিকার সৈয়দ আল জাবের সহ আরো কয়েকজন সাহিত্য সারথিদের নিয়ে সে বছরই রমজানে একটি ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে সংগঠনের আনুষ্ঠানিক যাত্রার ঘোষণা করি।প্রিয়ভাজনেষু কবি আল মুজাহিদী ও প্রাকৃতজ শামীমরুমি টিটন সদা পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন।

তারপর থেকে আমরা সাংগঠনিক ভাবে সামাজিক ও সৃষ্টিশীল অনেক কাজ করেছি।এবারের বই মেলায় আমরা জেসমিন জাহান জুঁই আপু ও সামশুল আরেফীন ভাই এর সম্পাদনায় “আমাদের কাব্যকথা” বইটি প্রকাশ করি। তাছাড়া একটি সাহিত্য বান্ধব অনলাইন পত্রিকা এবং প্রকাশনীও রয়েছে আমাদের।আমাদের স্লোগান “সত্য ও সুন্দরের জন্য সাহিত্য”।বা.সা.প সৃষ্টির অন্যতম কারণ হলো সে সময় অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কিছু সাহিত্য সংগঠন সেরা লেখক নির্বাচন,সম্মাননা স্মারক, অনুষ্ঠান আয়োজন,বই প্রকাশ এর কথা বলে নতুন লেখকদের নানা ভাবে প্রতারিত করেছিল তাই অনলাইনে সুস্থধারার সাহিত্য চার্চার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে একটি সাহিত্য সংগঠন তৈরী করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করি।আমরা সাহিত্য নিয়ে সস্তা প্রতিযোগিতায় বিশ্বাস করিনা, সাহিত্য সংগঠক হিসেবে সাহিত্যিকদের সেবা করতে চাই।

প্রশ্নঃ করোনার কেমন প্রভাব পরেছে লেখক সমাজে সাহিত্য সংগঠন ও প্রকাশনী গুলির কি অবস্থা?

নাঈম মাহমুদঃ অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০২০’ শুরুর আগেই সারা বিশ্বে করোনাভাইরাসের আতঙ্ক শুরু হয়। এই আতঙ্ক ফেব্রুয়ারি-২০২০ বইমেলাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করেছিল। বইমেলা শেষ হওয়ার এক সপ্তাহ পরই বাংলাদেশে করোনায় সংক্রমিত রোগী শনাক্ত হয়। এর কয়েক দিন পরই আসে দেশব্যাপী বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা। বন্ধ দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়। বইমেলা শেষে দেশব্যাপী বইয়ের দোকানগুলোতে নতুন বই ছড়িয়ে দেওয়া বা বিক্রি হয়ে ওঠেনি।এই বন্ধের কারণে প্রকাশনা ব্যবসা স্থবির হয়ে যায় ।তবে অনেক প্রকাশনীই ইতিমধ্যে ২০২১ গ্রন্থমেলার প্রস্তুতি নিতে শুরু করে দিয়েছে।সাহিত্য সংগঠনগুলো অনলাইনে তাদের কর্মযজ্ঞ চালাচ্ছে।তবে সাহিত্য সংগঠন গুলির এখন সাহিত্য চর্চার বাইরেও কিছু ভালো কাজ করা উচিৎ। অনেক কবি,লেখক দিন আনে দিন খায়।কে রাখে তাদের খোঁজ।ভিত্তিহীন প্রতিযোগিতা ও সাহিত্য সনদ বিতরণ তো অনেক হলো এবার আমি সাহিত্য সংগঠন ও সংগঠকদের অনুরোধ করবো অসহায় কবি-লেখকদের জন্যে কিছু করুন।

প্রশ্ন : তরুণদের জন্য কিছু বলুন।

নাঈম মাহমুদ : তরুণ শব্দের অর্থ হচ্ছে নির্বোধ, অজ্ঞ। তবে আমরা তরুণ বলতে সাধারণত বয়সে কমটাকেই বুঝি।তরুণদের কর্মঠ ও আত্মবিশ্বাসী হতে হবে।যুদ্ধে যাওয়ার বয়সী তরুণদের বলবো আপনারা বিনয়ী হোন
তরুণদের মুখ্য কাজ হওয়া উচিত ‘পড়া’। সময় পেলেই পড়তে হবে। তাহলেই জ্ঞান অর্জন হবে, জীবনে অনেক বড় হওয়া যাবে। আর সব সময় মনে রাখতে হবে, পড়ার কোনো বিকল্প নেই।

প্রশ্নঃ বর্তমান তরুণ কবি লেখকদের আপনি কী বার্তা দিতে চান?

নাঈম মাহমুদঃ একজন কবি তার স্বপ্নের মতো বড় কিন্তু সেথায় সত্য ও বাস্তব জীবনের স্পর্শ থাকা উচিৎ। লেখকরা সময়ের দর্পণ তাই সময়ের স্রোতে টিকে থাকতে হলে লেখায় সত্যকে ধারণ করতে হবে তাতে যত বাঁধা বিপত্তিই আসুক না কেন।আর কবিদের অবশ্যই প্রেমিক হতে হবে,দেহ-প্রাণে প্রেম সর্বস্ব জীবন মূর্ত-বিমূর্ত আনন্দ-সৌন্দর্য প্রেমে।

Check Also

১৪ জুলাইয়ের পর লকডাউন আবারো বাড়বে কিনা জানালেন নৌপ্রতিমন্ত্রী

১৪ জুলাইয়ের পর লকডাউন আবারো বাড়বে কিনা জানালেন নৌপ্রতিমন্ত্রী

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ১৪ জুলাই পর্যন্ত বিধিনিষেধ আছে। সরকারের পরামর্শক কমিটি আছে। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!